রায়হানকে উঠিয়ে নিয়ে আসেন এএসআই আশেক এলাহি

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

রায়হানকে উঠিয়ে নিয়ে আসেন এএসআই আশেক এলাহি

সিলেট অফিস:-  হরহামেশা এমন গল্প কেবল শুনেই এসেছে সিলেট। চোখে দেখেনি। শোনা এই গল্পটিই এবার লিখে ফেললো সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বদৌলতে সিলেট এখন ভিন্নমাত্রার ইতিহাসের সঙ্গি। ১১ অক্টোবর, ২০২০।

 

ইতিহাসের পাতায় এক নির্মম, লোমহর্ষক আর বেদনাদায়ক স্মৃতির দিন হয়েই থাকবে। টগবগে তরুণ রায়হান উদ্দিনকে দিয়ে ইতিহাসের মোড় ঘোরানো এই ঘটনার জন্ম দিলো পুলিশ। তাকে তিলে তিলে পেশাদার খুনিদের মতো হত্যা করা হয়।

 

কীরকম কষ্ট দিয়ে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে, সেটা মৃত্যুবরণকারি রায়হান আর ওই পুলিশ সদস্যরা ছাড়া কেউ জানেও না। একাত্তরের কথা ১১ অক্টেবরের নির্মমতার বিবরণ জানার চেষ্টা করেছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, পুলিশের বিশেষ টহল দল সিয়েরা-২ এর দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই আশেক এলাহি। তার সাথে ডিউটিতে ছিলেন কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস ও তৌহিদ। তারাই রায়হান উদ্দিনকে উঠিয়ে আনেন।

এসময় পুলিশ ফাঁড়িতে অবস্থান করছিলেন ইনচার্জ (আইসি) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ পুলিশের কয়েকজন কনস্টেবল। ফাঁড়িতে আনার পর রায়হানের বিরুদ্ধে আশিক এলাহি অভিযোগ করেন, সে একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার কণ্ঠে কণ্ঠ মেলান সেখানে উপস্থিত এএসআই কুতুব আলী।

এরপর শুরু হয় বিজ্ঞাসাবাদ। তার মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করতে গলধঘর্ম হচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এক ফাঁকে রায়হানকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাঁড়ির ভেতরের একটি কক্ষে। শুরু হয় বেধড়ক মারপিট। লাঠি, লোহার রড যে যা দিয়ে পেরেছেন, রায়হানকে পিটিয়েছেন। বেধড়ক পিটুনিতে এক সময় অনেকটা অচেতন হয়ে পড়েন রায়হান। তবুও থামেনা নির্যাতন।

অচেতন রায়হানের উপরে নির্যাতনের সকল কৌশলই প্রয়োগ করা হয়। মারপিটের এক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয় প্লাস। ভোঁতা সেই অস্ত্র দিয়ে রায়হানের হাতের আঙুল থেকে নখ টেনে তোলা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার কাঁধে নির্যাতনের দায় চাপাচ্ছে। রায়হানকে মারধরকারি কনস্টেবল টিটু, হারুন ও আকবর হোসেন এবং এএসআই কুতুব আলীকে তিনি বাহবাই দিচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষ করছিলেন পুরো ঘটনা।

 

এদিকে, মারধরের এক পর্যায়ে রায়হান বাসা থেকে টাকা এনে দেয়ার কথা জানালে নির্যাতন বন্ধ করা হয় কিছু সময়ের জন্য। এরপর এসআই আকবরের নির্দেশে কনস্টেবল তৌহিদ তার ব্যবহৃত মোবাইল (০১৭৮ ৩৫৬১১১১) ফোন দেয় রায়হানের হাতে। তখন ওই নাম্বার থেকেই রায়হান তার পিতা হাবিবুল্লাকে টাকা নিয়ে দ্রুত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আসতে বলেন।

এই সময়ের মধ্যে ফাঁড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন রায়হান। তখন হতাশা চেপে ধরে পুলিশ সদস্যদের। তাকে সুস্থ করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিএনজি অটোরিকশা করে এএসআই আশেক এলাহি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিছু সময়ের মধ্যেই মৃত্যু ঘটে আড়াই মাস বয়সী কন্যার জনক রায়হানের।

সুত্র: একাত্তরের কথা

সুরমাভিউ সর্বশেষ সংবাদ

Richard Mille Replica
Not every person knows that, prior to being a brandname, Laurent Ferrier will be richard mille replica, beyond every little thing, a guy -- a talented, modest and extremely wonderful gentleman.