যুক্তরাষ্ট্রে গোলাপগঞ্জের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলা-নির্যাতন : বাঙালি কমিউনিটিতে ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে গোলাপগঞ্জের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলা-নির্যাতন : বাঙালি কমিউনিটিতে ক্ষোভ

সুরমাভিউ:-  যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের হাডসনে ৬৭ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ঐ ব্যক্তি দীর্ঘদিন থেকে মরণব্যাধী ক্যান্সার ও হার্ট সার্জারীসহ বিভিন্ন রোগে ভোগছেন বলে তার নিকটাত্বীয়রা জানিয়েছেন। হয়রানির শিকার ঐ বৃদ্ধের নাম মোহাম্মদ আলী। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর থেকে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছেন। তাঁর দেশের বাড়ি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নে।

পরিবার ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সম্পূর্ণ অসৎভাবে পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহনীর কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে তার পরিবার, স্থানীয় প্রতিবেশী ও বিভিন্ন কমিনিটি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা মামলাগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন।

অভিযোগে উলে­খ আছে, মোহাম্মদ আলী ২০০৯ থেকে ২০১১ অবধি কয়েকজন মেয়েকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলীর পরিবার সুত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে মোহাম্মদ আলী জানতে পারেন যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ খোঁজাখুজি করছে। খবর পেয়ে মোহাম্মদ আলী নিজে পুলিশ ষ্টেশনে যান। গিয়ে জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে কয়েকটি যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনাগুলি প্রায় ১০ বছর পূর্বের। তিনি আনীত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে অস্বীকার করেন। তারপর তিনি আদালতে গিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আনেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আইনীভাবে বিষয়টিকে মোকাবেলার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন মেয়ে ২০০৯ সালে সংগঠিত ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন যার বয়স ছিল তখন আনুমানিক ২/৩ বছর। এখানে উলে­খ্য যে, এই মেয়েটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে প্রথম আসে ২০১৩ সালে। কিন্তু মামলায় ধর্ষণের সময়কাল উলে­খ করা হয় ২০০৯ সালে। তাছাড়া ২ থেকে ৩ বছরের একটি শিশু কি করে এতো নিখুঁতভাবে ধর্ষণের ঘটনা বর্ণনা করল তা নিয়েও প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। – এ নিয়ে মামলার সত্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া অন্যান্য অভিযোগকারীদের সাথে ঘটা ধর্ষণের সময়কালও উল্লেখ করা হয় ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে। যা থেকে প্রতীয়মান হয় অভিযোগকারী প্রায় সব ভিকটিমের ঘটনার সময় গড় বয়স ছিলো ৪/৫ বছর। তাছাড়া ধর্ষণের ঘটনা ঘটার ৭ বছর পর ২০১৬ সালে মামলা করা, তারও ৩ বছর পর ২০১৯ সালে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় মামলার ভিত্তি নিয়ে মানুষের সন্দেহ আরো ঘনিভূত হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্নসুত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ইন্ধনদাতা হচ্ছেন জেবিন আহমেদ রুহি ও জেরিন আহমেদ নামে দুবোন। যারা পারিবারিক পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিকভাবে একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরী ও হাডসনে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকা বাংলাদেশী কমিউনিটিকে আমেরিকান সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছেন। জেবিন ও জেরিন এই দুইবোনের বাড়ি হচ্ছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং ইউনিয়নের চকরিয়া গ্রামে। বাবা মোঃ হেলাল মিয়ার সাথে তারা দুই বোন দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

এই দুইবোন ও তাদের পরিবারের কর্মকাণ্ড এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ পত্রের শিরোনামে আসে। খবর নিয়ে জানা যায়- ২০১৮ সালের মে মাসে হাডসন ইসলামিক সেন্টারের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মহিলাদের আলাদা ভাবে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। ফলশ্র“তিতে জেবিন আহমেদ রুহি ও তার পরিবার মসজিদ কমিটিসহ সকল মুসলিম কমিউনিটির বিরুদ্ধে নারীদের অধিকার হরণ ও অসাম্যতার অভিযোগ এনে বিভিন্ন সংবাদ পত্রের শিরোনাম হোন। তার এহেন কর্মকাণ্ড বিবিসিসহ বিভিন্ন পশ্চিমা মিডিয়া বেশ আগ্রহের সাথে প্রকাশ করে। ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথে মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও বিভিন্ন মিডিয়ায় বিষয়টিকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে তুলে ধরলে জাবিনের হীন উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে চলে আসে। নিজের ক্যারিয়ার ও মিডিয়ার নজরে আসার জন্য সমস্থ মুসলিম কমিউনিটিকে তার এমন অপমানে হাডসনের বাঙ্গালি কমিউনিটি স্তম্ভিত হয়ে যায়।

খবর নিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে তিনি অনেকটা আগের উপায়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পাকাপোক্ত ও পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নিতে চাইছেন। তার এই অভিলাষ পূরণে তিনি ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশি আমেরিকানদের গর্ব নির্বাচিত স্থানীয় বাংলাদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কমিউনিটি নেতা এমনকি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সমালোচনা করতে ছাড়ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে দুবোনের অভিযোগ, তারা নাকি ভিকটিমদের পক্ষে কথা বলছেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় বাঙ্গালী কমিউনিটি নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে একটি চক্রান্ত বলে অভিহিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশে বিচারাধীন একটি বিষয় নিয়ে আন্দোলন ও বিচার নিয়ে সন্দেহ পোষণ করাকে হাস্যকর বলে মত প্রকাশ করেন। এবং কেউ কেউ এটাকে সম্পূর্ণ আদালতের বিষয় বলে মতামত ব্যক্ত করেন।

এছাড়া স্থানীয় বাংলাদেশীরা তাদের দুই বোনের বিরুদ্ধে সমস্থ বাঙ্গালী পুরুষ সমাজকে মেয়েদের প্রতি লেলুপ দৃষ্টিতে তাকানো ও ধর্ষণের ইন্ধনদ্তাা হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ আনেন যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে এখনো বিদ্যমান। যা সকল বাংলাদেশি পুরুষ সমাজের জন্য খুবই অসম্মানের ও কষ্টের।

যুক্তরাষ্ট্র কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ জানান, জেবিন ও জেরিনের নোংরামি কার্যকলাপ সমর্থন না করায় তারা অনেকেই নানাভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। কমিউনিটি নেতৃবৃন্দদের প্রতিনিয়ত ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি মামলার হুমকি দিচ্ছেন জেবিন ও জেরিন। জেবিন ও জেরিনের ইন্ধনে মোহাম্মদ আলীর বাসা ঘেরাও করে রঙ ছোড়াছুড়ি, গালাগালির ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। মোহাম্মদ আলীর পাসপোর্ট পুলিশে হেফাজতে থাকা স্বত্তেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রোগাপান্ডা উড়িয়ে রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা সৃষ্টি করছেন ওই দুই বোন।অথচ তিনি চাইলেই দেশে চলে যেতে পারতেন কিন্তু তিনি তা না করে নিজে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের এহেন কর্মকাণ্ড শুধু বাঙ্গালি সমাজকে যুক্তরাষ্ট্রে ছোট করছে না বরং পুরো বাঙ্গালি জাতিকে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করছে বলেও জানান বাঙালি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সুরমাভিউ সর্বশেষ সংবাদ

Richard Mille Replica
Not every person knows that, prior to being a brandname, Laurent Ferrier will be richard mille replica, beyond every little thing, a guy -- a talented, modest and extremely wonderful gentleman.