সিলেটে করোনা রোগীর চিকিৎসা নিয়ে সংঘর্ষে অন্তসত্বার শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০

সিলেটে করোনা রোগীর চিকিৎসা নিয়ে সংঘর্ষে অন্তসত্বার শিশুর মৃত্যু

সলমান আহমদ চৌধুরী,সুরমা ভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম : সিলেটে করোণা রোগীর চিকিৎসা সেবা নিয়ে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মতামতের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুত্বর আহত হওয়া অন্তসত্বা মায়ের পেটে থাকা শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে যেখানে হাসপাতালগুলো সেবা দিতে তটস্থ, সেখানে সিলেটে সমন্বিত সেবার উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সংগঠন সিলেট বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশন। আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নগরীর দুটি বেসরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখাসহ পাঁচটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংগঠনটি।

গত ১১ এপ্রিল শনিবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংগঠনের উদ্যোগে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সমন্বয়ে বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশন এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় সংগঠনটি সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেসরকারি হাসপাতালে সেবা দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল।

এরই মধ্যে গত ১৫ এপ্রিল নগরীর মিরবক্সটুলা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাউন্ট এডোরা হসপিটালে করোনা রোগী না রাখার জন্য সিভিল সার্জন বরাবরে এলাকাবাসীর পক্ষে নয়াসড়ক জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী আব্দুল মালিক রাজা, আজাদী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. আব্দুল কাহির ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মিলাদ আহমদ স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই দিনে পৃথক পৃথকভাবে সিটি মেয়র ও হসপিটাল পরিচালক বরাবরেও ৮৬ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

এই সংবাদ গনমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর সিলেটের আপামর জনতা অভিমত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে নানা রকম অভিমত প্রকাশ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি শেয়ার করেন নগরীর খাদিম পাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ রেদওয়ান নামের এক ব্যক্তি। তিনি সেইখানে লিখেন, ”যে ৮৬ জন স্মারকলিপিতে সাক্ষী দিয়েছেন তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন কারন এরা মানসিক ভাবে অসুস্থ।
এই মহামারীতে ডাক্তাররা মুক্তিযুদ্ধা হলে এরা সবাই হবেন রাজাকার।”

এমন মন্তব্যের পর সেখানে কমেন্ট করেন মিরবক্সটুলার কয়েকজন যুবক। এক পর্যায়ে একে অপরের সাথে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে যান। এরপর আদিত্য ইসলাম সালমান নামের এক যুবকও নিউজের বিরোধিতা করে কমেন্টস করেন।এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মিরবক্সটুলা এলাকার যুবকরা।

এরপর ১৭ এপ্রিল শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫ ঘটিকার দিকে মিরবক্সটুলা মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এক আত্মীয়কে নিয়ে যান আদিত্য ইসলাম সালমান,সেইখানে তাকে পেয়ে মিরবক্সটুলা এলাকার কয়েকজন যুবক গতিরোধ করে তার উপর হামলা করে,এক পর্যায়ে দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সালমানের উপরে পুনরায় হামলা করেন। আত্মরক্ষার্থে সালমান জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশী সহযোগিতা চাইলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ঘরে থাকা একটি ডামী পিস্তল ও একটি দেশীয় দা পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সালমানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান।

খবর পেয়ে সালমানের মামা,সৈয়দ রেদওয়ান ঘটনাস্থলে পৌছে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে ভাগনাকে মারার প্রতিবাদ জানালে তার উপরও হামলা করে উপস্থিত জনতা। এ সময় পুলিশ উৎসুক জনতাকে লাঠিচার্জ করে রেদওয়ানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়। পরদিন সালমান ও রেদওয়ানকে পুলিশ কোর্টে প্রেরণ করলে তাদের পক্ষের আইনজীবি জামিন আবেদন করলে মহামান্য আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে সৈয়দ রেদওয়ানের স্ত্রী জিনাত মালিক লিসা ঘটনাস্থলে এসে স্বামীর উপর হামলাকারীদের খুজতে থাকেন।এ সময় এলাকার মহিলারা তাকেও মারধর করে,এক পর্যায়ে তার পেটে লাত্তি দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে আলট্রাসনোগ্রাফী করার পরামর্শ দেন। আলট্রাসনোগ্রাফীর রিপোর্টে দেখা যায় তিনি পেটে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে।ডাক্তার তাকে ১৪ দিনের বিশ্রামের পরামর্শ দেন।

এরপর গত ২৩ তারিখে হঠাৎ তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরদিন সকালে সিলেট নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়,ভর্তির পর পুনরায় তার আলট্রাসনোগ্রাফ করা হলে জানা যায়,তার পেটে থাকা বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে গেছে।

এমন খবর পেয়ে তিনি মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন । এ সময় তিনি তার পেটে থাকা শিশু হত্যার বিচার চেয়ে কান্নায়ও ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে তার স্বামী রেদওয়ান সুরমা ভিউকে জানান,তার স্ত্রী-র উপর হামলার বিচার তিনি চান,তার সন্তানকে তিনি ফিরিয়ে পেতে চান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি সন্তান হত্যার জন্য মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সুরমাভিউ সর্বশেষ সংবাদ

Richard Mille Replica
Not every person knows that, prior to being a brandname, Laurent Ferrier will be richard mille replica, beyond every little thing, a guy -- a talented, modest and extremely wonderful gentleman.